ঝড়ের রাতে প্লেন থেকে লাফ—ডি.বি. কুপারের সেই অমীমাংসিত বিমান ছিনতাইয়ের রহস্য!

২৪শে নভেম্বর, ১৯৭১—পোর্টল্যান্ড থেকে সিয়াটলের একটি সাধারণ ফ্লাইট ছিল এটি। কিন্তু সেই বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যায়, একজন শান্ত চেহারার যাত্রী মেঘের আড়ালে ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যাবেন, তা কে জানতো!

তিনি নিজের নাম বলেছিলেন ড্যান কুপার। ভালো পোশাক পরা, ভদ্র এবং শান্ত। তিনি ১৮সি সিটে বসে একটি ড্রিঙ্ক অর্ডার করেন এবং ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টের হাতে একটি ছোট নোট ধরিয়ে দেন। প্রথমে অ্যাটেনডেন্ট পাত্তা না দিলেও, লোকটি ফিসফিস করে বলে, “মিস, এটা পড়ুন। আমার কাছে বোমা আছে।”

তার ব্রিফকেসে ছিল তার এবং লাল রঙের কিছু বস্তু। তিনি নগদ ২ লক্ষ ডলার, চারটি প্যারাসুট এবং সিয়াটলে একটি ফুয়েল ট্রাক প্রস্তুত রাখার দাবি জানান।

প্লেনটি অবতরণের পর, এফবিআই মুক্তিপণ পৌঁছে দেয়। তিনি ৩৬ জন যাত্রীকে অক্ষত অবস্থায় ছেড়ে দেন, কিন্তু ক্রুদের রেখে দেন। এরপর, বোয়িং ৭২৭ বিমানটিকে আবার রাতের আকাশে উড়িয়ে নিয়ে যেতে নির্দেশ দেন, মেক্সিকোর দিকে—১০,০০০ ফুট উচ্চতায়, ধীর গতিতে।

🌩️ দক্ষিণ-পশ্চিম ওয়াশিংটনের কোথাও, এক ভয়ংকর ঝড়ের মধ্যে, ডি.বি. কুপার প্লেনের দরজা খোলেন… এবং লাফ দেন।

বরফশীতল বৃষ্টি, প্রবল বাতাস আর নিকষ কালো অন্ধকারের মধ্যে—টাকা এবং নিজের গোপন পরিচয় নিয়ে তিনি হারিয়ে যান।

তাকে আর কখনও দেখা যায়নি।

কয়েক দশক ধরে এফবিআই হাজার হাজার সূত্র ধরে তদন্ত করেছে। কোনো লাভ হয়নি। ১৯৮০ সালে, কলম্বিয়া নদীর ধারে খেলতে গিয়ে এক বালক কিছু পুরোনো ২০ ডলারের নোট খুঁজে পায়—যার সিরিয়াল নম্বর মুক্তিপণের টাকার সাথে মিলে যায়। তদন্তকারীরা এর বেশি কিছুই উদ্ধার করতে পারেনি।

২০১৬ সালে, ৪৫ বছর পর, এফবিআই আনুষ্ঠানিকভাবে মামলাটি বন্ধ করে দেয়, স্বীকার করে যে ডি.বি. কুপার কে ছিলেন বা তিনি সেই লাফ দেয়ার পর বেঁচেছিলেন কিনা, তার কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ তাদের কাছে নেই।

আজ পর্যন্ত, তার পরিচয় এক রহস্য—রাতের আকাশে লেখা এক ভূতের গল্প। 💼💰 আমেরিকার ইতিহাসে একমাত্র অমীমাংসিত বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনা—ডি.বি. কুপারের কিংবদন্তী আজও বেঁচে আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *