ছাই কিনেই ভাগ্য বদল! মানিকগঞ্জের গ্রামে যেভাবে ছাই সোনা হয়ে ওঠে

মাটি খুঁড়ে গুপ্তধন পাওয়ার গল্প তো অনেক শুনেছেন, কিন্তু ছাই ঘেঁটে সোনা খুঁজে পাওয়ার গল্প শুনেছেন কি? অবিশ্বাস্য মনে হলেও, মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার চারিগ্রাম আর গোবিন্দল গ্রামে ঠিক এটাই ঘটছে শত শত বছর ধরে! এখানকার মানুষ গয়নার দোকানের ফেলে দেওয়া ছাই থেকেই খুঁজে নিচ্ছেন নিজেদের সচ্ছলতার পথ।

ব্যাপারটা কী?

গয়না বানানোর সময় সোনা বা রুপা গলানো, পরিষ্কার করার পর যে ছাই বা বর্জ্য তৈরি হয়, তাতে কিন্তু মিশে থাকে একদম খাঁটি সোনা-রুপার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণা। এই গ্রামের মানুষরা দেশের নানা প্রান্তের গয়নার দোকান থেকে সেই ছাই কিনে আনেন। দাম নির্ভর করে ছাইয়ের পরিমাণ আর মানের ওপর, ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে!

ছাই থেকে সোনা—কীভাবে?

প্রক্রিয়াটা বেশ জটিল, কিন্তু গ্রামের মানুষরা বংশ পরম্পরায় শিখে নিয়েছেন এই কৌশল। প্রথমে ছাই ভালো করে চেলে, গুঁড়ো করা হয়। এরপর পানিতে মিশিয়ে, শুকিয়ে, আগুনে পুড়িয়ে নেওয়া হয়। শেষে নানা রকম রাসায়নিক, যেমন অ্যাসিড ব্যবহার করে সেই ছাই থেকে চকচকে সোনা আর রুপা বের করে আনা হয়।

শুধু ব্যবসাই নয়, বেঁচে থাকার লড়াই

প্রায় দেড়শ’ বছর ধরে চলে আসছে এই কাজ। অনেকের কাছে এটা শুধু ব্যবসাই নয়, দারিদ্র্যকে জয় করার হাতিয়ার। যেমনটা বলছিলেন একজন কারিগর, “আগে অনেক কষ্টে দিন কাটত। কিন্তু এই কাজটা শেখার পর সংসারে আর অভাব নেই।” ফেলে দেওয়া বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করার এর চেয়ে ভালো উদাহরণ আর কী হতে পারে!

তবে চিন্তার কারণও আছে

ইদানীং রাসায়নিকের দাম বেড়েছে, ছাই কিনতেও বেশি টাকা লাগছে। তাই লাভ কমে আসছে। আবার, এই কাজে ব্যবহৃত কেমিক্যাল কিন্তু শরীর আর পরিবেশের জন্যও বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। এত পুরোনো একটা পেশা, অথচ সরকারি সাহায্য বা তেমন কোনো স্বীকৃতিও নেই বললেই চলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *