Physical Address
304 North Cardinal St.
Dorchester Center, MA 02124
Physical Address
304 North Cardinal St.
Dorchester Center, MA 02124

১৯৭১ সালের উত্তাল সময়। বঙ্গোপসাগরের গভীরে তখন চলছিল এক অদৃশ্য যুদ্ধ। একদিকে ছিল ভারতের গর্ব, বিমানবাহী জাহাজ ‘আইএনএস ভিক্রান্ত’। আর তাকে ডুবিয়ে দেওয়ার জন্য অন্যদিকে ছিল পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় আতঙ্ক, সাবমেরিন ‘পিএনএস গাজী’।
গাজীর লক্ষ্য ছিল একটাই: যেকোনো মূল্যে ভিক্রান্তকে খুঁজে বের করে ধ্বংস করা। কারণ পাকিস্তান জানত, ভিক্রান্তকে সরাতে পারলেই বঙ্গোপসাগর তাদের দখলে চলে আসবে।
কিন্তু করাচি থেকে রওনা দেওয়ার পর হঠাৎই যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেল গাজী। পাকিস্তান নৌবাহিনীর কপালে চিন্তার ভাঁজ। কোথায় গেল তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র?
তারপর, ৩ ডিসেম্বর রাতে বিশাখাপত্তনমের কাছে সাগরতলে ঘটে এক প্রচণ্ড বিস্ফোরণ!
পরের দিন সকালে জেলেরা সাগরে তেল আর ভাঙা টুকরো ভাসতে দেখে। নিশ্চিত হওয়া যায়, ৯৩ জন নাবিকসহ গাজী এখন সাগরের অতলে চিরনিদ্রায়।
কিন্তু কীভাবে ডুবলো গাজী?
এই রহস্যের সমাধান আজও হয়নি। ভারত দাবি করে, তাদের জাহাজ আইএনএস রাজপুতের বোমাতেই এটি ধ্বংস হয়। আবার অনেকে মনে করেন, ভেতরে কোনো দুর্ঘটনা বা মাইন পাতার সময় ভুল হওয়ায় এটি ধ্বংস হয়।
কারণ যা-ই হোক, গাজীর ডুবে যাওয়াটা ছিল মুক্তিযুদ্ধের এক মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া ঘটনা। বঙ্গোপসাগরে আর কোনো বড় বাধা রইলো না। এবার ভয়ডরহীন ভিক্রান্ত হয়ে উঠল এক অপ্রতিরোধ্য শক্তি। ![]()
ভিক্রান্তের বিমানগুলো একটানা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খুলনা আর মংলার পাকিস্তানি ঘাঁটির ওপর বোমা ফেলতে শুরু করে। পাকিস্তানি সৈন্যদের পালানোর সব রাস্তা—আকাশপথ, জলপথ—সব বন্ধ হয়ে গেল। বাইরের দুনিয়া থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে ৯৩,০০০ পাকিস্তানি সৈন্য আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়।
একটা সাবমেরিনের সলিল সমাধি, আর তারই ওপর গড়ে উঠল একটি নতুন দেশের ভোরের আলো। ![]()